আমার বন্ধু রাশেদ
■Book Review■
বইয়ের নাম : আমার বন্ধু রাশেদ
লেখকের নাম : মুহম্মদ জাফর ইকবাল
প্রকাশনী : কাকলী
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪
পৃষ্ঠা : ১১২
মুক্তিযুদ্ধে শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সাহিত্যে সেভাবে আলোচিত হয়নি। এক্ষেত্রে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার তাদের অবদান নিয়ে স্বতন্ত্র একটি উপন্যাস লিখে বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরেছেন।
লাড্ডু নামের ছেলেটি স্কুলে ভর্তি হলে শ্রেণী শিক্ষক মজিদ স্যার তার নাম রাখেন রাশেদ হাসান। ভর্তি হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই দিলীপ, ফজলু, আশরাফ এবং ইবু তার ভালো বন্ধু হয়ে যায়।
বাবার কাছ থেকে রাজনীতির ধারা শেখা রাশেদ দিনের বেলা যদিও স্কুলে যেত, কিন্তু রাত হলে ঠিকই বেরিয়ে পড়ত মশাল হাতে মিছিলে। এমনকি একসময় সকলের অগোচরে রাশেদ তার চার বন্ধুসহ মুক্তিবাহিনীর সাথে কাজ করা শুরু করলো।
অন্যদিকে তাদের প্রিয় শফিক ভাই কাউকে না জানিয়ে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এমনকি ভালোবাসার মানুষ অরু আপাকেও না জানিয়ে।
রাশেদের পরামর্শে চারবন্ধু গুলির বেল্ট শরীরে বেঁধে বিভিন্ন ভান করে রাজাকার ও মিলিটারির সামনে দিয়ে মুক্তিবাহিনীর কাছে পৌঁছে দিত। মিলিটারির হাতে ধরা পড়া শফিক ভাইকে তারা ফাসির মঞ্চ থেকে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অবিশ্বাস্য ভাবে উদ্ধার করেছিল।
দেশের অবস্থা আরো খারাপ হওয়ায় রাশেদের সহযোগী বন্ধুরা পরিবারের সাথে একে একে শহর ছেড়ে যেতে থাকে। তখন বিষন্ন শহরে রাশেদ বন্ধুহীন হয়ে পড়ে। এরপর সে সক্রিয়ভাবে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেয়। ১৯৭১ সালের ২ রা ডিসেম্বর রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ে রাশেদ। হায়েনারা অকুতোভয় দেশপ্রেমিক এই কিশোরের প্রাণ ছিনিয়ে নেয়।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সবাই নিজ নিজ বাসস্থানে ফিরল। অরু আপাও শফিক ভাইকে ফিরে পেল। কিন্তু রাশেদ আর ফিরল না। চিৎকার করে কেঁদে ফেলল ইবু। মনে পড়ল রাশেদের সেই কথা,
"তুই আমার বন্ধু হবি? একেবারে প্রাণের বন্ধু। সারা জীবনের বন্ধু। মরে গেলেও যে বন্ধু থেকে যায়। সেই বন্ধু।"
■ডাইরী থেকে : নভেম্বর ২০২১
3

Comments
Post a Comment